ত্রিফলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিন
আপনি কি ত্রিফলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানার জন্য আগ্রহী। সত্যিই যদি আগ্রহী হয়ে থাকেন তাহলে ত্রিফলার উপকারিতা ও ত্রিফলার অপকারিতার পাশাপাশি খাওয়ার নিয়ম গুলো জেনে নিতে পারেন। ত্রিফলার মধ্যে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু গুনাগুন। যে উপকার ও গুনাগুন গুলো সকলের জানার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
ত্রিফলা মানুষকে যুগ যুগ ধরে সেবা দিয়ে আসছে। এর সেবায় মানুষ অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। ত্রিফলা খাওয়ার মধ্যে এমন কিছু উপকারিতা রয়েছে। যে উপকারিতা গুলো অন্য কোন খাদ্যের মধ্যে খুঁজে পাওয়া কষ্টসাধ্য।
পোস্ট সূচীপত্রঃ
সারসংক্ষেপ
ত্রিফলা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় শত শত বছর ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ত্রিফলা বলার কারণ হচ্ছে তিনটি ফল দ্বারা গঠিত উপাদান। যার মধ্যে রয়েছে অনেক ধরনের উপকারিতা। ত্রিফলার ব্যবহার সর্বপ্রথম শুরু হয়েছে ভারতে। যা এখন পর্যন্ত এর ব্যবহার চলমান রয়েছে। আর এর ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলেছে কারণ ত্রিফলার উপকারিতার সংখ্যা অনেক বেশি। আবার ত্রিফলার কিছু অপকারিতাও রয়েছে। তাই আজকে ত্রিফলা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানাবো। যে তথ্যগুলো জানার মাধ্যমে আপনাদের উপকারে আসবে।
ত্রিফলা কি
ত্রিফলা হচ্ছে পুষ্টি ও গুনাগুন সম্পূর্ণ একটি ভেষজ উদ্ভিদ যা আয়ুর্বেদিক নির্যাসে ব্যবহৃত হয়। কেউ যদি ঘরোয়া উপায়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি সহ আরো অনেক রোগের হাত থেকে রক্ষা পেতে চাই। তাহলে ত্রিফলা খাওয়ার মধ্যে উপকারিতা রয়েছে। ত্রিফলার মধ্যে রয়েছে ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এর মতো আরো কিছু উপকরণ।
আরো পড়ূনঃ পাথরকুচি পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা
যা শরীর থেকে দ্রুত ওজন কমাতে সাহায্য করে, লিভার সুস্থ রাখতে সাহায্য করে, চুল, ত্বক, দাঁত ইত্যাদির প্রতিশোধ হোক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ত্রিফলা মূলত তিনটি উপাদান দ্বারা গঠিত আমলকি বা আমলা, বহেড়া ও হরতকি। এই উপাদান গুলোর মধ্যে যথেষ্ট পরিমাণে উপকারিতা রয়েছে। যা নানান রোগের সমাধান হিসেবে কাজ করে থাকে।
আমলকিঃ আমলকি খেতে অনেক সুস্বাদ ও গুনাগুন সম্পন্ন। এর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফাইবার, জিংক ও ক্যাটোরিন যা চোখের দৃষ্টি শক্তি, হাড় মজবুত, ত্বকের উজ্জ্বলতা ও রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে থাকে। এর মত গুনাগুন সম্পূর্ণ একটি উপাদান ত্রিফলার মধ্যে রয়েছে।
বহেড়াঃ বহেড়া হচ্ছে গুনাগুন ও উপকারিতা সম্পূর্ণ একটি ভেষজ। যার বাকল, বীজ ও ফল তিনটি উপাদান রোগ নির্ময়ে সহযোগিতা করে। বহেড়া মধ্য থাকা উপকরণগুলো আমাশয়, যৌন শক্তি, কৃমি রোগ, চুল পড়া সহ আরো কিছু সমস্যার সমাধানে সহায়তা করে। এই বহেড়া হচ্ছে ত্রিফলার তিনটি উপাদানের মধ্যে একটি যা ত্রিফলার উপকার ও গুনাগুন বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে।
আরো পড়ূনঃ গাজরের উপকারিতা ও অপকারিতা
হরতকিঃ হরতকির মধ্যে অ্যামাইনো এসিড ও ট্যানিন উপকরণ রয়েছে যা জন্ডিস, কোষ্ঠকাঠিন্য, চোখের সমস্যা, ত্বকের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের সমস্যা সমাধানের জন্য হরতকি কাজ করে থাকে। তাইতো ত্রিফলার অন্য দুটি উপাদানের মত এই উপাদানটিতেও গুণাগুণ অনেক বেশি পরিমাণে রয়েছে। এই তিনটি গুনাগুন সম্পূর্ণ ফল একসাথে যুক্ত হওয়ার কারণেই এর নাম দেওয়া হয়েছে ত্রিফলা।
ত্রিফলার উপকারিতা
১। লিভারের সুস্থতাঃ আপনি ত্রিফলা খাওয়ার মাধ্যমে লিভারের সুস্থতা বজায় রাখতে পারেন। শরীরের মধ্যে থাকা ডিটাক্স লিভারের মধ্যে থেকে বিষাক্ত জীবাণু ও ব্যাকটেরিয়া দূর করতে সাহায্য করে। এই ডিটক্স কে ভালো রাখার জন্য ত্রিফলা খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এর পাশাপাশি লেবু ও পানির শরবত খেতে পারেন। নিয়মিত বেশি বেশি পানি খাবেন। তাই লিভারের সুস্থতার জন্য ত্রিফলা খাওয়ার মধ্যে উপকারিতা লুকিয়ে রয়েছে।
২। দ্রুত ওজন কমাতে সাহায্যঃ অতিরিক্ত ওজন নিয়ে ভোগান্তির শেষ নেই। বাহিরে বন্ধুরা ওজন বেশি হওয়ার কারণে অপমান করে। যেকোনো কাজ করতে সমস্যা হয়। নানান ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় ওজনের কারণে। দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই।
আপনি যদি ডায়েটের খাবার তালিকায় ত্রিফলা রাখতে পারেন। তাহলে এই খাবারটি শরীরের ওজন কমাতে দারুন ভূমিকা পালন করবে। কারণ শরীরের ভিতরে অতিরিক্ত যে সকল চর্বি রয়েছে তা দূরীভূত করতে সহায়তা করে।
৩। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিঃ আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা প্রায় অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর বড় একটি কারণ হচ্ছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল। রোগের প্রতিরোধ ক্ষমতা কে বাড়িয়ে তোলার জন্য নিয়মিত ত্রিফলা খেতে থাকুন।
কারণ এর মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে। ত্রিফলার মধ্যে একটি উপাদান হচ্ছে আমলকি বা আমলা যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় ভূমিকা পালন করে থাকে।
৪। পেটের সমস্যার সমাধানঃ যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা রয়েছে তারা নিয়মিত ত্রিফলা খেতে পারেন। ত্রিফলা আপনার পেটের পরিপাকতন্ত্র গঠনে সাহায্য করে। তাড়াতাড়ি হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। মলত্যাগের সময় কষ্ট হয় এই সকল সমস্যাগুলোর সমাধান হিসেবে ত্রিফলা খাবেন। এর পাশাপাশি পেট ব্যথা ও পেট থুম ধরে থাকা থেকে মুক্তি দেয়। তাইতো পেটের সকল উপকারিতায় রয়েছে ত্রিফলা।
৫। মানসিক চাপ ও ডিপ্রেশনঃ নিয়মিত ত্রিফলা খাওয়ার মাধ্যমে মানসিক চাপ ও ডিপ্রেশনের মত মারাত্মক ব্যাধি থেকে মুক্তি পেতে পারেন। যারা প্রতিদিন মানসিক ভাবে অস্বস্তির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। রাতে ঘুমানোর সময় শান্তিতে ঘুমাতে পারছেন না। তাদের জন্য ত্রিফলার মধ্যে রয়েছে উপকারিতা।
৬। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণঃ যারা ডায়াবেটিসের কারণে নানান সমস্যায় ভুগছেন। প্রতিদিন সকালে শারীরিক শরীর চর্চার পাশাপাশি ত্রিফলা খেতে পারেন। ত্রিফলা ইনসুলিন প্রতিরোধ ব্যবস্থা গঠন ও রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। যা আপনার টাইপ টু ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করে থাকে। কিন্তু খাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন।
৭। চুলের সমস্যার সমাধানঃ যারা চুল পড়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা চুল পড়া রোধ করতে পারেন। যুবক বয়সে অথবা বৃদ্ধ বয়সে চুল পড়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন তারা নিয়মিত ত্রিফলা পেস্ট করে মাথায় ব্যবহারের মাধ্যমে উপকারিতা পাবেন। ত্রিফলার মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা চুলের গোড়া মজবুত করতে সহযোগিতা করে। পাশাপাশি চুলের মধ্যে থাকা খুশকি দূর করে উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে থাকে।
৮। ত্বকের সুস্থতাঃ পুরুষ ও মহিলা উভয়ই ত্বকের যত্নে খুবই সচেতন। এর কারন হচ্ছে সবাই নিজেকে খুব সুন্দরভাবে অন্যজনের সামনে উপস্থাপন করতে চাই। আর এর মধ্যে যদি বাধা হয়ে দাঁড়ায় ব্রণ, ফুসকুড়ি, বলিরেখা, একজিমা, বয়স্ক ছাপ ও আঁচিল সহ আরো অনেক সমস্যা তাহলে ত্রিফলার মধ্যে রয়েছে সমাধান।
আপনি ত্রিফলাকে ফেসপ্যাক হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। কিভাবে ফেসপ্যাক তৈরি করে ব্যবহার করবেন তা জেনে নিন। তিন চামচ ত্রিফলার গুঁড়া সাথে এক চামচ নারিকেল তেল অথবা গোলাপজল ব্যবহার করে পেস্ট করে নিন।
আরো পড়ূনঃ কাঁচা বাদাম খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
তারপরে মুখে দেওয়ার ২০ থেকে ২৫ মিনিট পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। আবার আপনি চাইলে ত্রিফলা খাওয়ার মাধ্যমেও ত্বকের এই সকল সমস্যা থেকে মুক্ত হতে পারেন। এভাবে করে টানা এক থেকে দুই মাস ব্যবহার অথবা খেতে থাকুন। দেখবেন ইনশাআল্লাহ আপনার ত্বক সুস্থ হয়ে উঠেছে।
৯। দাঁতের সুস্থতাঃ যাদের দাঁতের মাড়ি দুর্বল, দাঁতের গোড়ায় ব্যথা করে, দাতে পোকা রয়েছে, দাঁত ও মুখ দিয়ে দুর্গন্ধ বের হয় তাদের জন্য রয়েছে ত্রিফলা। নিয়মিত ত্রিফলা খাওয়ার মাধ্যমে উপকারিতা পাওয়া যাবে। ত্রিফলার মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল যা দাঁতের সুরক্ষা প্রদান করতে সহায়তা করে।
কোন ঠান্ডা কিছু খেলে দাঁতের মধ্যে শিশির ভাব ও লালচে ভাব দূর করতে সাহায্য করে। আপনি চাইলে ত্রিফলা খাওয়ার মাধ্যমে উপকারিতা নিতে পারেন আবার প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে আর রাতে ঘুমানোর আগে ত্রিফলার সাথে হালকা গরম পানি মিশ করে গড়গল করতে পারেন।
১০। চোখের সুস্থতাঃ যারা রাতে চোখে কম দেখেন অথবা দিনে চোখে ঝাপসা দেখেন। চোখের নানান ধরনের সমস্যায় ভুগছেন। তারা ত্রিফলার গুড়া ব্যবহার করতে পারেন। ত্রিফলার মধ্যে রয়েছে ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন এ যা চোখের সমস্যার সমাধানে দারুন ভূমিকা পালন করে। কিন্তু ত্রিফলা চোখে ব্যবহার করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
১১। ক্যান্সার প্রতিরোধঃ ত্রিফলার মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সহ আরো কিছু উপকরণ যা ক্যান্সার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য অ্যান্টিবডি তৈরি করে। তাই নিয়মিত ত্রিফলা খাওয়ার মধ্যে অনেক উপকারিতা রয়েছে।
১২। কোলেস্টরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণঃ ত্রিফলা শরীরের কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। শরীর থেকে খারাপ কোলেস্টেরল দূরীভূত করতে সহায়তা করে। তাইতো নিয়মিত ত্রিফলা খাবার হিসেবে গ্রহণ করুন।
আরো পড়ূনঃ খালি পেটে ইসবগুলের ভুসি খেলে কি হয়
১৩। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণঃ যাদের অল্প কিছুতেই উচ্চ রক্তচাপের সৃষ্টি হয়। তারা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়ম অনুসারে প্রত্যেকদিন ত্রিফলা খেয়ে এর উপকারিতা গ্রহণ করতে পারেন।
১৪। মাথাব্যথাঃ মাথাব্যথা যেন এখন প্রত্যেকটি মানুষেরই সমস্যা। আর এই সমস্যার সমাধানের জন্য ত্রিফলা খেতে পারেন। শোনা যায় মাইগ্রেনের সমস্যারও সমাধান দিয়ে থাকে ত্রিফলা।
১৫। শরীরের ব্যথাঃ শরীরের মাজা ব্যথা, হাড়ের ব্যথা, ঘাড়ের ব্যথা, পায়ের তালুতে ব্যথা সহ আরো অনেক স্থানের ব্যথা দূরীকরণে দারুন সহায়তা করে। তাই আপনাদেরও যদি এই সকল ব্যথা থেকে থাকে তাহলে নিয়মিত ত্রিফলা খাওয়ার মাধ্যমে সমাধান করতে পারেন।
১৬। রক্তের শূন্যতাঃ যাদের শরীরে রক্তের শূন্যতা অথবা রক্তের ঘাটতি রয়েছে। তারা নিয়মিত ত্রিফলা খাওয়ার মাধ্যমে রক্তের ঘাটতি পূরণ করতে পারেন।
১৭। মস্তিষ্কের সতেজঃ যাদের অল্পতেই মাথা গরম হয়ে যায় বা চিন্তাশীল শক্তি অনেক দুর্বল তাদের ত্রিফলা খাওয়ার মধ্যে উপকারিতা রয়েছে।
আরো পড়ূনঃ প্রতিদিন কতটুকু কিসমিস খাওয়া উচিত
যারা ত্রিফলা খাওয়ার জন্য আগ্রহী তারা অবশ্যই এটি খাওয়ার আগে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে পরামর্শ গ্রহণ করুন। কারণ ত্রিফলা খাওয়ার মধ্যে অনেক ধরনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে। তাই সতর্কতা অবলম্বন করে খাওয়া উচিত।
ত্রিফলার অপকারিতা
প্রত্যেকটি খাবার খাওয়ার আগে তার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জেনে নেওয়া প্রয়োজন। তেমনি ভাবে ত্রিফলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা জেনে নেওয়ার প্রয়োজনই তো রয়েছে। কারণ ত্রিফলা খাওয়ার মধ্যেও কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। যদিও কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া প্রমাণিত হয়েছে আবার কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া এখনো প্রমাণিত হয়নি।
আমরা সকলেই জানি ত্রিফলা খাওয়ার মধ্যে অনেক উপকার লুকিয়ে রয়েছে। কিন্তু আমরা অনেকেই মনে করি যত বেশি খাওয়া যাবে তত বেশি উপকার। আপনি যতই খান না কেন যতটুকু পুষ্টির প্রয়োজন ততটুকুই গ্রহণ করবে। বরং অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে অনেক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া গুলো দেখা দিতে পারে ত্রিফলা খাওয়ার মাধ্যমে।
- অতিরিক্ত ত্রিফলা খেলে গ্যাস ও ডায়রিয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
- গর্ভবতী নারীদের ত্রিফলা খাওয়া উচিত নয়। যদিও এটি এখনো কোন গবেষণায় প্রমাণিত হয়নি।
- ত্রিফলা খাওয়ার ফলে বমি বমি ভাব ও শারীরিকভাবে নিজেকে অস্বস্তিকর বোধ মনে হতে পারে।
- অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে আরো সমস কিছু সংখ্যক পার্শ্বপ্রতিকরা দেখা দিতে পারে।
- কোন প্রকার ঔষধ গ্রহণ করলে ত্রিফলা খাওয়ার আগে আয়ুর্বেদিক ডাক্তার অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন।
- ত্রিফলা অপ্রাপ্তবয়স্কদের খাওয়া উচিত নয়।
- ত্রিফলা খাওয়ার আগে অবশ্যই যথাযথ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ আপনার শারীরিক পরিস্থিতি বিবেচনা করবে ত্রিফলা খাওয়া যাবে কিনা।
ত্রিফলার খাওয়ার নিয়ম
প্রত্যেকটি খাবার খাওয়ার আগে তার মন গুলো জেনে নেওয়া হয়েছে। এমনই ভাবে ত্রিফলা খাওয়ার নিয়ম। যে নিয়ম মেনে চলে উপকারিতা পাওয়া যাবে। ত্রিফলা ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল, চূর্ণ ও পাউডার রূপে পাওয়া যায়। আপনি যেকোনো একটি খেতে পারেন। তবে যেটি খান না কেন তার নিয়ম গুলো সর্বপ্রথম জেনে নিবেন।
আরো পড়ূনঃ বরই পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা
- এক চামচ ত্রিফলার পাউডার ও হালকা গরম পানির মধ্যে মিশিয়ে রাতে ঘুমানোর আগে খেয়ে নিবেন।
- এক চামচ ত্রিফলার গুড়া অথবা পাউডার ও দেড় থেকে দুই চামচ মধু মিশিয়ে সকালে খাওয়ার পর খেয়ে ফেলুন।
- সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে ত্রিফলা খেলে বেশি উপকারিতা পাওয়া যায়।
- ত্রিফলার পাউডার, ক্যাপসুল ও চূর্ণ কেনার আগে অবশ্যই দেখে শুনে কিনবেন।
- ত্রিফলার পাউডার, ক্যাপসুল ও চূর্ণ খাওয়ার আগে মেয়াদ দেখে নিন।
ত্রিফলা খাওয়ার আগে আয়ুর্বেদিক ডাক্তার অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন। কারন কোন কিছু খাওয়ার আগে নিজের শারীরিক অবস্থা জানা প্রয়োজন। আর সেই সম্পর্কে চিকিৎসকের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে জ্ঞান রয়েছে। তাই অবশ্যই ত্রিফলা খাওয়ার আগে চিকিৎসকের সেবা গ্রহণ করুন।
ত্রিফলা কি প্রতিদিন খাওয়া যায়
দেখুন ত্রিফলা প্রতিদিন খাওয়া যাবে কিনা সেটি পুরোপুরি নির্ভর করবে আপনার উপর। কারণ সবার শারীরিক অবস্থা অথবা শারীরিক সক্ষমতা একই রকম হয় না। তাই প্রতিদিন ত্রিফলা খাওয়ার জন্য আয়ুর্বেদিক ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন।
তবে নিয়মিত ত্রিফলা খাওয়ার মধ্যে অনেক উপকারিতা রয়েছে। এই উপকারিতা গুলো পাওয়ার জন্য সঠিক নিয়ম মেনে খেতে হবে। আর সঠিক নিয়ম মেনে খাওয়ার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।
ত্রিফলার কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর
১। ত্রিফলা কতদিন খাওয়া যায়?
উওরঃ ত্রিফলা কতদিন খেতে হবে এটির কোন নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। আপনার রোগের উপরে নির্ভর করবে কতদিন খেতে হবে।
২। ত্রিফলার দাম কত?
উওরঃ ত্রিফলার ১০০ গ্রাম পাউডারের দাম ১০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। সময়ের উপরে নির্ভর করে দাম ওঠানামা করে।
৩। ত্রিফলা কোথায় পাওয়া যায়?
উওরঃ ত্রিফলা বাজারের বিভিন্ন দোকানে পাওয়া যায়। আবার আপনি চাইলে বিভিন্ন ধরনের অনলাইন শপগুলো থেকে কিনে নিতে পারেন। অবশ্যই কেনার আগে দেখে শুনে কিনবেন। পারলে কোন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান থেকে কিনুন।
শেষ কথা ত্রিফলার উপকারিতার
প্রিয় পাঠক ইতিমধ্যে আপনারা ত্রিফলা উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেনেছেন। এই তথ্যগুলো জানার মাধ্যমে যদি কোন উপকারে এসে থাকে। তাহলে আপনার পরিবার ও বন্ধুদের সাথে তথ্যটি শেয়ার করুন। তাদেরকেও এই তথ্যটি সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দিন। পুরো তথ্যটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ
এসএইচ নিউজস্টোরের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url