অনলাইন বিজনেস কিভাবে করব এবং আইডিয়া জেনে নিন
আপনি যদি অনলাইনে ব্যবসা করতে চান। তাহলে অবশ্যই অনলাইন বিজনেস কিভাবে করব এবং অনলাইন বিজনেস আইডিয়া সম্পর্কে জানতে হবে। আর যদি এই সকল বিষয়ে জানা না থাকে এবং এই তথ্য সংক্রান্ত বিষয় গুলো জানার জন্য চিন্তিত হয়ে থাকেন। তাহলে চিন্তার কোন কারণ নেই। কারণ এখানে অনলাইন বিজনেস কিভাবে করব এবং আইডিয়া সংক্রান্ত বিষয়ে তুলে ধরা হয়েছে। যা পড়ার মাধ্যমে অনেক কিছু জানতে পারবেন এবং উপকৃত হবেন।
আমরা অনেকে অনলাইনে বিজনেস করতে চাই এবং অনলাইনে বিজনেস করার মাধ্যমে অধিক মুনাফা লাভ করতে চাই। কিন্তু আমাদের কোন অভিজ্ঞতা নেই এবং ইন্টারনেট সম্পর্কে কোন ধারণাও নেই। তাহলে কি অনলাইনে বিজনেস করতে পারবো। অবশ্যই পুরো আর্টিকেল এ উল্লেখযোগ্য বিষয়টি সম্পর্কে তুলে ধরা হয়েছে।
পোস্ট সূচিপএঃ
অনলাইন বিজনেস কি
অনলাইন বিজনেস বা ব্যবসা হচ্ছে ইন্টারনেট ব্যবহার করার মাধ্যমে যেই ব্যবসা পরিচালনা করা হয়। এর মানে হচ্ছে ক্রেতাদের কাছে বিক্রেতা যেই মাধ্যম ব্যবহার করে প্রচার-প্রচারণা থেকে শুরু করে বিক্রি করা পর্যন্ত যে কার্যক্রম গুলো পরিচালনা করে তা হচ্ছে অনলাইন বিজনেস। সহজ কথায় বলতে গেলে অনলাইনের মাধ্যমে যেই ধরনের ব্যবসা পরিচালনা করা হয় তাকে অনলাইন বিজনেস বলে। এর সম্পূর্ণ কার্যকলাপ ভার্চুয়াল জগতের সাথে সম্পৃক্ত যা ছোঁয়া যায় না।
অনলাইন বিজনেস কিভাবে করব
আগের তুলনায় বর্তমানে বিজনেস করা সহজতর হয়েছে। এর একটি মূল কারণ হচ্ছে ইন্টারনেটের ব্যবহার। দিন যত বাড়ছে মানুষের ইন্টারনেটের প্রতি আসক্তিও বাড়ছে যাকে পুঁজি করে অনলাইনে বিজনেস করা যায়। অনেকে মনে করে ইন্টারনেট হয়তো আবিষ্কার হয়েছে শুধুমাত্র বিনোদনের জন্য কিন্তু কথাটি একদম সত্য নয়। বিনোদনের পাশাপাশি যে কোনো ধরনের বিজনেস করা যায়।
আজ থেকে প্রায় ৭ থেকে ৮ বছর আগের কথা ভাবুন যখন মানুষ সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করতো বাটন ফোন। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাটন ফোনের ব্যবহার কমে গিয়ে অ্যান্ড্রয়েড ও আইএসও এর ব্যবহার বেড়েছে। এর পাশাপাশি বাড়ছে কম্পিউটার ও ল্যাপটপ এর ব্যবহার। এর থেকে বোঝা যাচ্ছে মানুষ তার জীবন যাত্রার মান পরিবর্তন করেছে এবং ঘরে বসে থেকে সকল কার্যকলাপ সম্পন্ন করার চেষ্টা করছে।
আপনাকেও তার সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য অনলাইনে বিজনেস করার প্রক্রিয়াগুলো খুঁজতে হবে। এর মানে হচ্ছে অনলাইন বিজনেস কিভাবে করব বা করবেন এই সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।অফলাইন বিজনেস মানে হচ্ছে ফিজিক্যালি কোন দোকান রয়েছে সেটাকে অনলাইনে আনতে চান।
আবার অনেকে নতুন কোন বিজনেস শুরু করতে চান কিন্তু সেটা শুধুমাত্র অনলাইনে। আপনাদের সিদ্ধান্ত বর্তমান যুগের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অনলাইন বিজনেস শুরু করার জন্য কিছু ধাপ ও পদক্ষেপ রয়েছে যা জানা খুবই প্রয়োজন। আসুন অনলাইন বিজনেসের আইডিয়া এবং এর সুযোগ সুবিধা থেকে শুরু করে টিপস সম্পর্কে জেনে নেই।
ফেসবুক যোগাযোগ মাধ্যম
ফেসবুক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেও অনলাইন বিজনেস এর গ্রোথ বৃদ্ধি করা যায়। আমাদের সকলের কম বেশি একটি করে ফেসবুক একাউন্ট রয়েছে। তবে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট দ্বারা অনলাইন বিজনেস তাড়াতাড়ি গ্রোথ করা সম্ভব হয় না। এর জন্য প্রয়োজন ফেসবুক পেজ যার মাধ্যমে অনলাইন বিজনেস গ্রোথ করা খুব সহজ।
নির্দিষ্ট যেকোনো পণ্য সম্পর্কে বিস্তারিত এবং অন্যের সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরার মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা করা যায়। আবার এর থেকে আরও ভালো হচ্ছে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন চালানো। ফেসবুক পেজের মধ্যে বিজনেস ম্যানেজার একাউন্ট খোলা যায়। সেখানে ফেসবুক এন্ড ক্যাম্পেইন এর মাধ্যমে মানুষের কাছে আরো দ্রুত পৌঁছানো যায়।
কিন্তু এখানে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য অর্থের প্রয়োজন হয়। আপনি চাইলে বুস্টের মাধ্যমেও পণ্য বা সেবা মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারবেন। কিন্তু বিজ্ঞাপন দেওয়ার মাধ্যমে সব থেকে দ্রুত পৌঁছানো যায়। তাই ফেসবুকে ব্যক্তিগত পেজের মধ্যে নিয়মিত পোস্ট করুন এবং বিভিন্ন সময় ক্যাম্পেইন চালানোর মাধ্যমেও প্রচার-প্রচারণা করতে পারেন।
গুগল এবং ইউটিউব মাধ্যম
আমরা সকলেই জানি ইউটিউব মূলত বিনোদনের এক অমূল জগত। যেখানে মানুষকে ভিডিও দেখানোর মাধ্যমে বিনোদন দাওয়া যায়। কিন্তু এর পাশাপাশি অনলাইনে বিজনেস করার জন্যেও ইউটিউব ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন ধরনের পণ্য ভিডিওর মাধ্যমে উপস্থাপন করে প্রচার-প্রচারণা করা যায়। আবার গুগলে বিজ্ঞাপন দেওয়ার মাধ্যমেও মানুষের কাছে খুব দ্রুত পৌঁছানো যায়।
বর্তমান সময়ে খুব জনপ্রিয় প্রচারের মাধ্যম হচ্ছে গুগলে বিজ্ঞাপন দেওয়া। তাই আপনারা যারা জিজ্ঞাসা করেছিলেন অনলাইন বিজনেস কিভাবে করব তারা এই পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন।
সোশ্যাল মিডিয়া মাধ্যম
বর্তমান সময়ে পণ্য সম্পর্কে মানুষকে জানানো এবং দ্রুততার সাথে পৌঁছানো খুব সহজ। তাই আপনি ঘরের বাহিরে গিয়ে পণ্য সম্পর্কে জানানোর পাশাপাশি ঘরে বসে থেকেও মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারবেন। সোশ্যাল মিডিয়ার যেই সকল প্লাটফর্ম রয়েছে ইনস্টাগ্রাম, টুইটার, প্রিন্টারেস্ট, টিকটক ইত্যাদি। এই মাধ্যমগুলো ব্যবহার করার মাধ্যমেও অনলাইন বিজনেস করা যাবে। তাই এই সকল প্লাটফর্মে যদি একাউন্ট না থেকে থাকে তাহলে তৈরি করে নিন। আর নিজের পণ্য সম্পর্কে অনলাইনের মাধ্যমে মানুষকে জানান।
ওয়েবসাইটে বিজনেস
সাধারণত বাংলাদেশের অনেকে ফেসবুক পেজের মাধ্যমে বিজনেস এর সকল কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এর মানে হচ্ছে ফেসবুক পেজের মাধ্যমে বিক্রয় সম্পূর্ণ করে। কিন্তু স্ট্যান্ডার্ডওয়ে হচ্ছে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিজনেস করা। ওয়েবসাইটের ভেতরে পণ্য বিক্রয় করা হচ্ছে উত্তম উপায়।
এই জন্য ফেসবুক পেজের মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা করুন এবং যখন বিক্রয়ের উপায়টি আসবে তখন ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন। এর জন্য ডোমেইন এবং হোস্টিংয়ের প্রয়োজন হয়। মূলত ডোমেইন এবং হোস্টিং ক্রয় করতে হয়। তারপর নিজের ইচ্ছামত পণ্যের ক্যাটাগরি তৈরি, পণ্যের ডেসক্রিপশন এবং দাম তুলে ধরা যায়।
ওয়েবসাইটে যে সকল পণ্য রয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ ডেসক্রিপশন এবং অন্যান্য যে সকল তথ্য রয়েছে তা দেওয়া মূল কথাই পূর্ণ এমনভাবে এসিও করতে হবে। যেন কেউ পণ্যের কিওয়ার ধরে সার্চ দিলে আপনার ওয়েবসাইট প্রথমের দিকে আসে। এই সকল কার্যক্রম ওয়েবসাইটের মধ্যে পরিচালিত হয়। যা অনলাইনে কিভাবে বিজনেস করবো তার পূর্ণাঙ্গ উত্তর দিতে সাহায্য করে।
অনলাইন বিজনেস আইডিয়া
অনলাইনে বিজনেস করার জন্য অনেক ধরনের আইডিয়া রয়েছে। আপনাদের যেটি পছন্দ হবে তার সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নিয়ে তারপর সেই ব্যবসা শুরু করুন। কারণ অনলাইনের বিজনেস অনেকটাই নির্ভর করে ডিজিটাল মার্কেটিং এর উপর।
আরো পড়ুনঃ এড দেখে টাকা ইনকাম করার ওয়েবসাইট
আপনার যদি ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে ধারণা না থাকে তাহলে তার সম্পর্কেও ধারণা নিতে হবে। কারণ বর্তমান যুগে অনলাইন বিজনেস শুরু করার জন্য অনেকগুলো পদক্ষেপ রয়েছে তার মধ্যে প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে কোন বিজনেস শুরু করা যায়। দ্বিতীয় পদক্ষেপ হচ্ছে যে বিজনেস শুরু করবেন তার প্রতি কত টাকা ইনভেস্ট করতে পারবেন।
আর তৃতীয় পদক্ষেপ হচ্ছে ডিজিটাল মার্কেটিং। ডিজিটাল মার্কেটিং মানে হচ্ছে অনলাইনের মাধ্যমে পণ্য বা সেবাকে মানুষের কাছে সহজে পৌঁছে দেওয়া। তাই আসুন অতি গুরুত্বপূর্ণ এবং বর্তমান সামাজসোপূর্ণ কিছু অনলাইন বিজনেস আইডিয়া সম্পর্কে জেনে নেই।
কাপড় ও পোশাক এর ব্যবসা
যদি নতুন পোশাক ব্যবসা শুরু করতে চান অথবা পোশাক এর দোকান রয়েছে সেটাকে আরো ভালো মাত্রায় নিয়ে যেতে চান। তাহলে অনলাইনে কাপড় ও পোশাক ব্যবসা শুরু করতে পারেন। এই ব্যবসা অল্প পুজিতেও গড়ে তোলা সম্ভব। অবশ্যই পোশাক ও কাপড় ব্যবসার সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে।
এর থেকে ভালো হবে যদি আপনি অভিজ্ঞ হয়ে তারপর শুরু করতে পারেন। এখন পোশাক ব্যবসায় অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন কিভাবে। এর জন্য বিভিন্ন পোশাক ও কাপড়ের দোকান রয়েছে সেখানে কিছু দিন সময় দিন। এরপর অনলাইনে কিভাবে মার্কেটিং করতে হয় তাও জানা প্রয়োজন। সেই সম্পর্কে কিছুটা হলেও জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।
যেমন ধরুন কিভাবে কাস্টমারের সাথে কথা বলতে হয় বা কনভেন্স করতে হয় এবং কিভাবে মার্কেটিং করলে কাস্টমার কাছে দ্রুত পৌঁছানো যায় ইত্যাদি। যদি এই কার্যক্রম গুলো সম্পন্ন করে অনলাইনে পোশাক ব্যবসার শুরু করেন। তাহলে আশা করা যায় পোশাক ব্যবসায়ী লাভবান হতে পারবেন।
অনলাইনে হোম মেড ফুড
হোম মেড ফুড এর বিজনেস কিভাবে করে? বর্তমান সময়ে খুবই জনপ্রিয়তা পেয়েছে হোমমেড ফুড বিজনেস। এই বিজনেসের সাথে পুরুষ ও নারী উভয় সম্পৃক্ত হতে পারবে। যদি রান্নার প্রতি আগ্রহ থাকে এবং বিভিন্ন কলা কৌশল আয়ত্তে থাকে তাহলে এই বিজনেস আপনার জন্য। এই বিজনেস করার জন্য খুবই স্বল্প পরিমাণে অর্থ প্রয়োজন হয়।
রান্না বান্না করার জন্য যেই সকল সামগ্রীর প্রয়োজন শুধুমাত্র সেগুলোর প্রয়োজন হয়। আপনি ঘরে বসে থেকে অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের খাবারের অর্ডার নিয়ে তা তৈরি করে যথাস্থানে পৌঁছে দিতে হবে। বর্তমানে চাকরিজীবী থেকে শুরু করে ছাত্ররা বিভিন্ন ব্যস্ততার কারণে রান্না করার মত সময় পায় না।
আবার অনেকে বাহিরের খাবার পছন্দ করে না। এই জন্য হোম মেড ফুড খুব জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। তাই আপনার যদি রান্নার প্রতি আগ্রহ থেকে থাকে তাহলে অনলাইনে হোম মেড ফুড এর ব্যবসা শুরু করতে পারেন।
কসমেটিক্স এর বিজনেস
বর্তমান সময়ে অতি আগ্রহের এক বিজনেস হচ্ছে কসমেটিকস। নারীরা তাদের রূপচর্চায় অনেক অর্থ ব্যয় করে থাকে। তার অনেকটাই খরচ করে কসমেটিকসের উপর। তারা নির্ভরশীল কোন ব্র্যান্ডের কাছ থেকে কসমেটিকস ক্রয় করে থাকে। আমি ধরে নিলাম কসমেটিকস বিজনেসের সম্পর্কে আপনার কোন ধারণা নেই। নতুন অবস্থায় কারো কোন কিছুর সম্পর্কে তেমন ধারণা থাকে না।
বিজনেস শুরু করার পর সময়ের সাথে সাথে তার ধারণা আয়ত্তে চলে আসে। এজন্য নতুন অবস্থায় ব্যবসা শুরু করার পরে কাস্টমারকে কনভেন্স করুন এবং বিভিন্ন স্ট্রাডিজি আয়তে নিয়ে আসুন। যেন কাস্টমার আপনার পণ্যটি কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করে। আপনি চাইলে দেশী ও বিদেশী যেকোনো একটি অথবা দুই ধরনের প্রোডাক্ট বিক্রির মাধ্যমে ব্যবসা যাত্রা শুরু করতে পারেন।
অবশ্যই পুঁজি এবং আগ্রহ সাথে ইন্টারনেট সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা থাকতে হবে। এই ব্যবসায় যেমন বেশি বেশি প্রফিট করার সুযোগ রয়েছে ঠিক তেমনি প্রতিযোগীদের অভাব নেই। যখন আপনার বিজনেস মানুষের মুখে থাকবে এবং কসমেটিকসের কথা আসলে প্রথমে আপনার বিজনেসের নাম আসবে। তখন বুঝে নিবেন ভালো দিন শুরু হয়ে গেছে।
খেলাধুলার সরঞ্জাম
শিশু থেকে শুরু করে যুবকদের খেলাধুলার প্রতি এক আলাদা আগ্রহ রয়েছে। সেটা হতে পারে ক্রিকেট ব্যাট, ফুটবল, ক্রিকেটের নানান সরঞ্জাম, গেমিং প্যাড, হকি, ভলিবল এবং বাস্কেটবল সহ নানান সরঞ্জাম। এই সরঞ্জাম গুলোর ঘরে বসে থেকে প্রচুর পরিমাণে অর্ডার পাওয়া যাচ্ছে। এই ব্যবসা করার জন্য যথেষ্ট পরিমাণে পুঁজির প্রয়োজন রয়েছে।
কারণ অনলাইনে ব্যবসাটি করার জন্য প্রচার-প্রচারণার খরচ এবং সরঞ্জাম গুলো ক্রয়ের খরচ মিলে ভালো পরিমাণের অর্থের প্রয়োজন রয়েছে। খেলাধুলার সরঞ্জাম বিক্রি করার জন্য সবথেকে ভালো হয় যদি অনলাইনের পাশাপাশি একটি আউটলেট থাকে। এর মানে হচ্ছে অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইনেও বিজনেস। তাই আপনার যদি আগ্রহ, যথেষ্ট পুঁজি এবং অনলাইন সম্পর্কে ধারণা থেকে থাকে তাহলে শুরু করে দিন।
জুতা ও স্যান্ডেল
আরেকটি অধিক জনপ্রিয় অনলাইন বিজনেস আইডিয়া হচ্ছে জুতা ও স্যান্ডেল। প্রায় প্রত্যেকটি মানুষের জুতা ও স্যান্ডেলের প্রয়োজন হয়। প্রতিদিন জুতা স্যান্ডেলের বিজনেস হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকার। এই বিজনেস আরো সহজ হয়েছে ইন্টারনেট ব্যবস্থার কারণে। কিছু যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ব্যবহার করে খুব সহজেই মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারবেন।
খুব জনপ্রিয় অনলাইন বিজনেস আইডিয়াগুলোর মধ্যে একটি যা আপনাকে অধিক প্রফিট এনে দেবে। কিন্তু শুরুর দিকে প্রফিট নাও হতে পারে। আপনি যদি দেশি ও বিদেশী প্রোডাক্ট বিক্রি করতে চান। তাহলে সেই পণ্যগুলোর সম্পর্কে মানুষকে জানাতে হবে।
কেন মানুষ আপনার পণ্যটি কিনবে এবং এই পণ্যটি কেনার সুযোগ সুবিধা সম্পর্কে জানাতে হবে। অবশ্যই এই বিজনেস করার জন্য যথেষ্ট পুঁজি থাকা প্রয়োজন। কারণ আশেপাশে প্রতিযোগী অনেক। তাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলার জন্য প্রচার-প্রচারণার প্রয়োজন রয়েছে।
অনলাইনে ব্যবসা করে কোটিপতি হওয়া যায়
অনলাইনের মাধ্যমে ব্যবসা করে কোটিপতি হওয়া যায়। কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন কঠোর পরিশ্রম এবং ধৈর্য শক্তি আর সাথে বিচক্ষণতা এবং অভিজ্ঞতা। আপনার মধ্যে যদি এই সকল বৈশিষ্ট্য গুলো উল্লেখিত থাকে তাহলে অনলাইনে ব্যবসা করে কোটিপতি হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। কোনো জিনিস খুব সহজে পাওয়া বা দ্রুততার সাথে আনয়ন করা যায় না।
বিচক্ষণতার সাথে অনলাইনে ব্যবসা করতে পারলে কোটিপতি হওয়া সম্ভব বেড়ে যাবে। পৃথিবীতে যত কোটিপতি রয়েছে তার মধ্যে অধিকাংশই ব্যবসায়িক। সেই প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে আধুনিক যুগেও ব্যবসার মাধ্যমে কোটিপতি হওয়া যায়। বর্তমান সময়ে ব্যবসা করে কোটিপতি হওয়া আরও সহজ কারণ আপনাকে ইন্টারনেট সহযোগিতা করবে।
অনলাইন ব্যবসার সুবিধা
অনলাইনে যারা ব্যবসা শুরু করেছেন তাদের জন্য রয়েছে অনেক সুযোগ সুবিধা। আসুন অনলাইনে ব্যবসার সুবিধা গুলোর সম্পর্কে জেনে আসি।
- অনলাইনের ব্যবসায়ের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে কম খরচে অধিক লাভবান হওয়া যায়।
- মানুষের কাছে খুবই দ্রুততার সাথে পণ্য ও সেবা গুলোকে পৌঁছানো সম্ভব হয়।
- দেশসহ বিশ্বব্যাপী পণ্য ও সেবা গুলোকে অনলাইনের মাধ্যমে প্রচার প্রচারণা করা যায়।
- দিনে ২৪ ঘন্টা সপ্তাহে ৭ দিন ব্যবসায় কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হয়।
- অনলাইনের মাধ্যমে সঠিক মানুষের কাছে সঠিক পণ্য প্রচার করা যায়।
- অনলাইনের মাধ্যমে ডেটা গুলোকে সংগ্রহ করে বিচার-বিশ্লেষণ করার মাধ্যমে ব্যবসার গতি পথ বোঝা যায়।
- অনলাইনে যেই সকল বিজ্ঞাপনের মাধ্যম রয়েছে সেখানে কম খরচে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়।
অনলাইন ব্যবসার অসুবিধা
অনলাইন ব্যবসার সুবিধার পাশাপাশি কিছু অসুবিধা রয়েছে। ঠিক যেগুলোর কারণে অনলাইনে অনেক ব্যবসায়ী প্রফিট বা লাভ করতে পারে না। এই অসুবিধা গুলোর সাথে যেই লড়াই করতে পারবে। সেই মূলত অনলাইন ব্যবসার জগতে টিকে থাকতে পারবে। আসুন অনলাইন ব্যবসার অসুবিধা গুলো জেনে আসি।
- অনলাইন ব্যবসার জগত এ টিকে থাকতে হলে প্রতিযোগিতা করতে হবে। মূলত নতুনদের জন্য এখানে অনেক প্রতিযোগী রয়েছে। যেগুলো তাদের থেকে বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান।
- নতুন ও পুরাতন অনেক উদ্যগতার মধ্যেই অনলাইন বা ইন্টারনেট সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান নেই। যার কারণে অনলাইন ব্যবসায়ে বেশিদিন টিকে থাকতে পারে না। তাই ডিজিটাল মার্কেটিং সহ আরো কিছু বিষয়ে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।
- সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে গ্রাহকদের বিশ্বাস অর্জন করা। এটি যখন অর্জিত হয়ে যাবে তখন আর আপনাকে পিছে ঘুরে তাকাতে হবে না। কিন্তু এটি অর্জন করা অনেক কষ্টসাধ্য এবং পরিশ্রমের বিষয়।
- ডেলিভারি সংক্রান্ত বিষয়গুলো আপনাকে ভোগাতে পারে। অনেক সময় পণ্য ডেলিভারি করতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়। যারা রিটার্ন পলিসি থাকতে হয়। এর মানে হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত পণ্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে গ্রহণ করতে হয়।
- সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি থাকে যা ডেটা চুরি ও আর্থিক ক্ষতি সহ নানান ঝুঁকি। যা অনলাইন সংক্রান্ত ব্যবসায় ঘটতে পারে।
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, অনলাইনে বিজনেস করা যেমন সহজ আবার তেমনই কঠিন। এই কারণে কথাটি বলতে হচ্ছে যদি ব্যবসার সংক্রান্ত যথাযথ ধারণা না থাকে এবং অনলাইন জগতে সম্পূর্ণ নতুন হয়ে থাকেন। টেকনোলজি সম্পর্কে কোন জ্ঞান না থাকে তাহলে আপনাকে অনলাইন ব্যবসায়ী নতুন হিসেবে অনেক স্ট্রাগল করতে হবে। কারণ বর্তমানে প্রায় অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের ব্যবসা অনলাইনে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে। সেই ক্ষেত্রে বলাই যায় অনলাইন বিজনেসে প্রতিযোগিতা রয়েছে।
তাই যথাযথ অনলাইন বিজনেস কিভাবে করব বা করতে হয় তার সম্পর্কে জানতে হবে। আশা করি পুরো আর্টিকেল পড়ার মাধ্যমে অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে অনলাইন বিজনেস কিভাবে করব বা করা যায়। আপনি যদি পুরো আর্টিকেল পড়ে উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে আপনার বন্ধু এবং আরো যারা অনলাইনে বিজনেস করার জন্য আগ্রহী তাদেরকে তথ্য সংক্রান্ত বিষয় গুলো জানিয়ে দিন। যেন তারাও এই সম্পর্কে জেনে উপকৃত হতে পারে।
এসএইচ নিউজস্টোরের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url